বিয়ে, ফ্যান্টাসী এবং অতঃপর 🔺🔺🔺



▶▶বিয়ে, ফ্যান্টাসী এবং অতঃপরঃ

:

১)‘বেশ কয়েক বছর ঘর করার পর মনে হলো স্বামী রোম্যান্টিক নয়।

তাকে সেভাবে সময় দেয় না, ঘুরতে নিয়ে যায় না।

অবশেষে স্ত্রী আনরোম্যান্টিক স্বামীকে ডিভোর্স দেয়।’

.

২)‘ছেলেটা বিয়ে নিয়ে ছোটবেলা থেকেই অনেক স্বপ্ন দেখতো।

তার বউ হবে বাংলা সিনেমার শাবানার মতো, শত অপরাধ করলেও কেঁদে কেঁদে বলবে ও আমার স্বামী, তোমাকে ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচি!’

কিন্তু ছেলেটা বিয়ের পর পরই ধাক্কা খায়।

তখনো সে বউ ঘরে উঠায়নি।

কিন্তু প্রতিদিন ফোনালাপ চলত।

একদিন সে বউকে তার পূর্ব প্রেমের ইতিহাস জানায়।

বউ ক্ষেপে গিয়ে খারাপ কথা শোনায়, খুব রিয়্যাক্ট করে।

ছেলেটা প্রচন্ড ধাক্কা খায়।

এই মেয়ে তো শাবানা নয়।

স্বামীর সব দোষ ত্রুটিকে মেনে নিতে পারে না, স্বামীর পূর্ব প্রেম ভালাবাসাকে ভালোভাবে নেয় না।

নাহ! একে দিয়ে ঘর করা যাবে না। ডিভোর্স চাই, ডিভোর্স।

সংসার না পাততেই ডিভোর্সের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে ছেলেটি।’

:

:

উপরের দুইটা ঘটনাই আমার দেখা।

না মিললে ডিভোর্স দাও...স্বামী রোমান্টিক নয়...স্বামী নাক ডেকে ঘুমায়...স্ত্রী শাবানার মতো নয়, স্বামীর ভুল ত্রুটিতে রিয়্যাক্ট করে... স্ত্রী বাবা-মায়ের জন্য জানটা দিতে পারে না, স্বামী পঁচা মাছ বাজার করে আনে...মশারী খাটায় না...স্ত্রীর রান্না ভালো না...স্বামী লুতুপুতু করে না...বেড়াতে নিয়ে যায় না...মেলে না......কিচ্ছু মেলে না... কী আর করা ডিভোর্স দিয়ে দাও।

.

শকুনীর মতো সব আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব যেন ব্যাপারটা আরও উসকে দেয়।

আগুনে ঘি ঢালে।

খুব অল্প স্বল্প বনিবনা না হলেই সমঝোতার চিন্তা না করেই প্রথমেই ডিভোর্সের চিন্তা করে ফেলে।

শয়তানও পিছু নেয়, ছাড়াছাড়ি করিয়ে ছাড়ে।

.

ধরি, ছেলেটা ডিভোর্স দিয়ে আবার নতুন বউ আনল।

ছেলেদের বিয়ে করা খুব সহজ।

আমার পরিচিত এক লোক চারবার আরেক লোক তিনবার ভালো ভালো ঘরের মেয়েকেই বিয়ে করেছে।

নতুন বউ আগের জনের চেয়ে বাহ্যিকভাবে  খুব ভালো মনে হয়।

কিন্তু সংসার করতে যান, কাছে যান, দেখবেন সবই ফাঁকা।

মিথ্যার মায়াজাল, কেউ মনের মতো হয় না।

.

প্রত্যেক মানুষই আলাদা চেহারার, বাহির এক রকম ভিতরটা অন্যরকম।

বউ কী শাড়ি কাপড়, এত ম্যাচিং লাগে কেন?

সে তার মতোই থাক না।

বরং আপনার এত ম্যাচিং লাগলে আপনিই পাল্টে গিয়ে তার মতো হয়ে যান।

এত চাওয়া কেন?

বউ হ্যান হবে, ত্যান হবে?

আপনি কী কারো জন্য এতটুকু পাল্টেছেন?

আপনার সব কিছু কী কারো সাথে মিলে যায়?

তাহলে কেন এত চাওয়া?

.

আবার মেয়েরা (যৌতুক, শারীরিক অত্যাচার, মাদকাসক্ত, পরকীয়া, শারীরিক অক্ষমতা) এসব গুরুতর কারণ ছাড়াই অনেকেই অনেকটা ইগো আর জেদের বশবর্তী হয়ে যখন ঘর ছাড়ে।

প্রথমে তারা কিছুই টের পায় না।

ভাবে, বাহঃ, কী স্বাধীন জীবন!

‘জরায়ুর স্বাধীনতা’ বলে একটা নতুন টার্ম তথাকথিত নারীবাদীরা বের করেছে।

অনেকেই না বুঝে সেদিকে পা বাড়ায়। এটা যে স্বাধীনতা নয় স্বেচ্ছাচারিতা এটা তারা বুঝতেও চায় না।

তারপর লাগামহীম জীবনের আনন্দ এক সময় নিভে আসে।

দিন গড়ালেই তারা টের পায় জীবনটা আসলে কী!

কত দুর্বিষহ!

ডিভোর্সী মেয়ে মানেই যেন ‘ফ্রি মাল’ আর ‘ভোগের বস্তু’।

যেহেতু তার স্বামী নাই, কোনো প্রটেক্টর নাই, তাহলে তাকে যে ভাবে ইচ্ছে ইউজ করতে থাকে।

সবাই তার প্রতি সিমপ্যাথি দেখায়, আহঃ উহঃ করে, বন্ধুত্ব আর প্রেমের অফার দেয়।

কিন্তু বিয়ে করতে চাইলে নাক ছিটকায়।

‘অন্যের ছাড়া ভাত আমি কেন খাবো?’ বলে সটকে পড়ে।

বিয়ের বাজারে যেখানে কুমারী মেয়েকে পাত্রস্থ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ডিভোর্সী মেয়েকে বিয়ে করার মানসিকতা কত জন পুরুষের আছে?

.

আচ্ছা ধরি, ডিভোর্সী মেয়েটার বিয়ে হলো।

কিন্তু সে কী আগের স্বামীর চেয়ে উত্তম?

বাহ্যিকভাবে ভালো মনে হলেও ম্যাচ করবে তো?

হয়ত আগের স্বামীর মতো সেই নির্দিষ্ট দোষ তার নেই কিন্তু অন্য ভয়ানক দোষ ঠিকই খুঁজে পাবে।

আবার সেই হতাশা...মেলে না...কিচ্ছু মেলে না।

.

ডিভোর্স দেবার আগে বারবার চিন্তা করুন।

আপনার স্পাউজ যদি মাজলুম হয় আপনি যদি তার উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে তালাক দেন, তাহলে আপনি নতুন কারো সাথে কখনোই সুখী হবেন না।

এটা গ্যারান্টেড।

কারণ মজলুমের ফরিয়াদ আর আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।

এক্স স্পাউজের দ্বীর্ঘশ্বাস আপনাকে কুঁড়ে কুঁড়ে শেষ করে দেবে।

হয়ত সাথে সাথেই ফল পাবেন না।

তবে এক সময় ঠিক অনুধাবন করতে পারবেন কী ভুলটাই আপনি করেছেন, কত অবিচার করেছেন তার প্রতি।

.

লুত (আঃ) নিকৃষ্ট স্ত্রী (যে কী না সমকামীদের সাহায্য করতে গিয়েছিল) নিয়ে সংসার করে গেছেন।

আবার আছিয়া (আঃ) নিকৃষ্ট স্বামী ফেরাউনকে নিয়ে সংসার করে গেছেন।

সমস্ত কষ্টের বিনিময়ে প্রিয় রবের কাছে একটা ঘর চেয়েছিলেন।

তারা সহনশীলতার দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।

দিন দিন অসহিষ্ণতা বেড়ে চলছে আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম্পত্য কলহ।

ঢাকা শহরে তালাকের আবেদন বাড়ছে।

গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে তালাকের আবেদন করা হচ্ছে।

গত ছয় বছরে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অর্ধলাখের বেশি তালাকের আবেদন জমা পড়েছে।

এ হিসাবে মাসে গড়ে ৭৩৬টি, দিনে ২৪টির বেশি এবং ঘণ্টায় একটি তালাকের আবেদন করা হচ্ছে।

.

আসুন তালাকের কারণগুলি বিশ্লেষণ করি ও সমাধান খুঁজিঃ

১) অসহনশীলতা ও ইগোঃ

তালাকের প্রধাণ কারণ হলো দুই পক্ষের অসহনশীলতা ও ইগো।

‘নো কম্প্রোমাইজ’ লেখা বুকে ধারণ করে দুইজন সংসার করতে নামেন।

অনেকেই ভাবে যে একে অপরকে ছাড় দেওয়া বা কম্প্রোমাইজ করা মানে হলো হেরে যাওয়া, মাথা নিচু করা।

এই ধরণের মনোভাব নিয়ে সংসার করলে ভাঙন দেখা দেবেই।

সংসার তো একটাই, এখানে হার-জিতের কিছু নাই।

অসহনশীলতার সাথে ইগো যোগ হলে ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে দাঁড়ায়।

ইগো ঝেড়ে ফেলুন, সহনশীল হোন, আপনি সুখী হবেন।

.

২) অকৃতজ্ঞতাঃ

‘ওই ভাবীর রান্না যা ভালো হয় না! জানো?’

বা ‘আমার মায়ের মতো জীবনেও তুমি রাঁধতে পারবে না! বুঝলে?’

এমন কম্প্যায়ার করে কেন পুরুষেরা অশান্তি ডেকে আনেন?

পাশের বাড়ীর ভাবী হোক বা নিজের মাই হোক, প্রত্যেকেই আলাদা মানুষ, প্রত্যেকের কাজের ধরণ আলাদা, রান্নার টেকনিক আলাদা।

আপনার মা আপনাকে যতটুকু ভালোবাসেন, যতটুকু কেয়ার করেন তার সিকি ভাগও বউ পারবে না।

কারণ মা আপনার জন্মদাত্রী, সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে বেশি কষ্টসহিষ্ণু, আপনার দোষত্রুটি তিনি মেনে নিতে পারেন, অন্ধভাবে ভালোবাসতে পারেন, আপনার অসুখের সময় দিন রাত এক করতে পারেন, এটাই স্বাভাবিক।

এটাই মায়ের সহজাত গুণ তাই মা সব থেকে বেশি হকদার।

সেখানে মায়ের সাথে বউকে কীভাবে কম্প্যায়ার করেন?

এটাতো স্পষ্ট শয়তানের কাজ।

.

অন্যদিকে নারীরাও কম যায় না।

-‘আমার বান্ধবীর স্বামী ওকে ডায়মন্ড রিং দিয়েছে?

তুমি আমাকে কী দিয়েছো?’

-‘আমার ফেবু ফ্রেন্ড ঘুরতে গেছে, পিক দিয়েছে।

তুমি আমাকে তো হানিমুনে পর্যন্ত নিয়ে যাওনি?

শুধু আমি বলে তোমার সংসার করছি!’

-‘আমি ছাড়া অন্য কেউ হলে তোমার বারোটা বাজাত!’

এগুলো নারীদের কমন ডায়ালগ।

কৃতজ্ঞতা খুব কম জনই প্রকাশ করতে পারে।

.

এমন অকৃতজ্ঞ হৃদয়ের মানুষেরা সংসারে শুধু অশান্তিই বয়ে আনে।

তাই দুই পক্ষকেই কম্প্যায়ার করা ছেড়ে দিতে হবে।

চাওয়া-পাওয়ার এত হিসেব না কষে কে কার জন্য কতটুকু কী করেছেন তার হিসেব করুন।

পাওয়ার চেয়ে আপনি তার জন্য কী করেছেন, তার হিসেব করুন, সঙ্গীর প্রতি ইহসান করুন।

একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞ হোন।

কারণ আল্লাহ সুবহানা তা'আলা কৃতজ্ঞশীল বান্দাদেরকে নেয়ামত বৃদ্ধি, স্থায়িত্ব ও বরকতের প্রতিশ্রুতি ও গ্যারান্টি দিয়ে বলেন, ‘‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞশীল হও, তবে আমি তোমাদের আরো বাড়িয়ে দেব আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার শাস্তি বড়ই কঠোর।’’

(সূরা ইবরাহিম ০৭)

.

৩) গৃহকর্মে অনীহাঃ

গৃহের সব দায়িত্ব নারীর একার নয়। আমাদের এই উপমহাদেশে ছেলে সন্তানদের ছোট বেলা থেকেই অথর্ব করে গড়ে তোলা হয়।

জগ থেকে এক গ্লাস পানি পর্যন্ত ঢেলে খেতে পারে না, এমন পুরুষও আমি দেখেছি।

ছোটো ছোটো কাজ, নিজের কাপড় ধোয়া, আয়রন করা, স্ত্রীকে কাজে সাহায্য করা এটাকে তারা অসম্মানের ভাবেন।

সারাদিন নয়টা-পাঁচটা অফিস করে তারা বিশাল কিছু করে এসেছেন বলে দাবী করেন।

অথচ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ যিনি তার পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র পরিচালনার মতো কঠিন কাজ করে এসেও সংসারের কাজে হাত লাগিয়েছেন।

আমাদের প্রিয় নবীজী (সাঃ) গৃহে কি কাজ করতেন প্রশ্নে আয়েশা (রাঃ) বলেন, "তিনি ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতেন আর যখন আযান শুনতেন, তখন বেরিয়ে যেতেন।"

(বুখারী ৪৯৭২)

.

৪) অসম্মানঃ

আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষ ভাবে যে সম্মান পাওয়ার অধিকার শুধুই স্বামীর।

অথচ প্রত্যেক মানুষই সম্মান পাওয়ার যোগ্য।

কারো সম্মান নষ্ট করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।

.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমাদের কোন ভাই যাতে করে অন্য মুসলিম ভাইকে ছোট না করে অর্থাৎ তার মান ও সম্মান ক্ষুণ্ন না করে।

কেননা প্রত্যেক মুসলিম এর প্রতি অন্য ভাই এর রক্ত, মাল ও সম্মানকে ক্ষুণ্ন করা হারাম করা হয়েছে।”

(সহীহ মুসলিম ৪/১৯৮৬)

.

দুইজন দুইজনের সাথে সম্মানবোধ রেখে কথা বলবেন।

এমন কোনো কাজ বা কথা বলবেন না যা আপনার স্পাউজকে অসম্মানিত করে।

স্ত্রী দাসী নয় বরং চক্ষুশীতলকারী, হৃদয়ে প্রশান্তি দানকারী সহযোগী হিসেবে আল্লাহ আখ্যায়িত করেছেন।

তাই স্ত্রীকে সবার সামনে খাটো করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, গৃহকর্মের অবমূল্যায়ন করা, অবজ্ঞাসূচক বা অপমানজনক কথা বলা মোটেই উচিত না।

একজন মুসলিম অপর মুসলিমকে সম্মান করবে এই শিক্ষাই আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ)দিয়েছেন।

.

আপনি আপনার স্পাউজকে সম্মান করলে তিনিও আপনাকে সম্মান করবেন।

আপনার সংসার সুখের হবে।

.

৫) পরকীয়াঃ

সিনেমা, নাটক, টেলিফিল্মে দেখা জুটির প্রেম ভালোবাসা দেখে দেখে বড় হওয়া ছেলে-মেয়েরা সংসার বা দাম্পত্য জীবনের কঠিন মানেটা ধরতে পারে না।

তারা বিয়ে নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগে। তারপর যখন সত্যিকারের সংসারে প্রবেশ করে তখন ধাক্কা খেতে শুরু করে।

কল্পনার সাথে কিছুই মেলে না...মেলে না...তাই সুখ খুঁজে পায় না।

ফেসবুকে, সিনেমায়, নাটকে তারা যে সফল জুটি দেখে নিজেদের কম্প্যায়ার করে আর নিজেকে অসুখী ভাবা শুরু করে।

তারপর ‘তুমি সুখ যদি নাহি পাও, তবে সুখেরই সন্ধানে যাও...’

গানের লাইনের সাথে তাল মিলিয়ে অনেকেই আরেকজনের মধ্যে সুখ খুঁজতে শুরু করে, পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। অথচ এটা ব্যাভিচার, মারাত্মক গুনাহের কাজ।

নিজেদের দাম্পত্য কলহের অশান্তির মাঝে আরেকজনের সাথে সম্পর্ক জড়িয়ে শান্তি খোঁজার চেষ্টা করে।

ফোনালাপ, মেসেঞ্জারে চ্যাট, ইমো, ওয়াটস আপে অডিও বা ভিডিও কলের মাধ্যমে অন্যজনের সাথে প্রথমে জাস্ট ফ্রেন্ড সম্পর্ক তৈরি করে, তারপর আস্তে আস্তে সম্পর্ক গভীর হতে থাকে।

অথচ এগুলো সবই যিনা।

.

রাসূল (সাঃ) বলেছেন,

‘‘মানুষ তার সমগ্র ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে যিনা করে।

দেখা হচ্ছে চোখের যিনা, ফুঁসলানো কণ্ঠের যিনা, তৃপ্তির সাথে কথা শোনা কানের যিনা, হাত দিয়ে স্পর্শ করা হাতের যিনা, কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে পথ চলা পায়ের যিনা, এভাবে ব্যভিচারের যাবতীয় ভূমিকা যখন পুরোপুরি পালিত হয়, তখন লজ্জাস্থান তার পূর্ণতা দান করে অথবা পূর্ণতা দান থেকে বিরত থাকে।’’

(বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ)

.

পরনারী/পরপুরুষের সাথে স্পাউজকে মিলতে বাধা দিন।

পুরুষ নারী উভয়েই দৃষ্টি অবনত রাখুন। 

পুরুষ ও নারী দুইজনেই দৃষ্টির ও শরীরের পর্দা করুন।

তাহলে দেখবেন একে অপরের মধ্যে শান্তি খুঁজে পাবেন।

স্ব স্ব স্পাউজকেই তখন পৃথিবীর সেরা  সুন্দরী বা হ্যান্ডসাম লাগবে।

.

আপনি যত ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যাবেন, শান্তিও তত দূরে সরে যাবে।

আপনি স্ত্রীকে দিয়ে বাজার করান, স্ত্রীকে দিয়ে বন্ধুদের সামনে খাবার সার্ভ করান, সেজেগুজে তাকে বের করিয়ে দেখিয়ে দেন আপনার স্ত্রী কত সুন্দর!

.

পাপ করবেন, নিজে অন্য নারীর উপর ক্রাশ খাবেন, দুইজন মিলে সিনেমা দেখবেন, সিনেমার নায়ক/নায়িকাকে সঙ্গী হিসেবে দুইজন কল্পনা করবেন, আর দিন শেষে একে অপরের মাঝে শান্তি খুজবেন! হাউ ফানী!

.

ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন, সুখ আপনাকে খুঁজতে হবে না, সংসারের সুখ পাখিটা নিজে এসেই ধরা দেবে।

(সংগৃহীত) 

Add a post Now

Comments

Please login to comment

Login Now

// FEATURED

  • স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে পর্দা নিয়ে কথোপকথন

    09 May 2019

  • স্বামী -: তুমি কি বোরকা ছাড়া আগামী শুক্রবার তোমার চাচাতো বোনের বিবাহের অনুষ্ঠানে যেতে চাচ্ছো?? স্ত্রী :- হ্যাঁ!! কেনো নয়?? বিশেষ একটা দিন! স্বামী -: নাহ, তুমি বোরকা ছাড়া ঘর থেকে বেরহতে পারো...


  • নামাজ পড়ার ফজিলত ও নামাজ ত্যাগের ভয়াবহ পরিনতি

    09 May 2019

  • ১। হযরত হানযালা আল উসাইদী রাযি. হতে বর্ণিত, عن حنظلة الاسيدى ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال من حافظ على الصلوات الخمس على وضوئها ومواقيتها وركوعها وسجودها يراها حقا لله عليه حرم على النار রাসূ...


  • নামাজ সম্পর্কিত কিছু আয়াত ও হাদীস

    09 May 2019

  • আয়াত নং-১: اِنَّ الصَّلٰوةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ- অর্থাৎ- নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অশ্লীল ও ঘৃণিত কাজ থেকে বিরত রাখে। সূরা: আনকাবূত, আয়াত-৪৫ আয়াত নং-২ حٰفِظُوْا عَلَى الصَّلٰوتِ وَ...


  • উন্নত বিশ্ব এবং আমাদের মধ্যে পার্থক্য কি?
    উন্নত বিশ্ব এবং আমাদের মধ্যে পার্থক্য কি?

    03 May 2019

  • আমার স্টুডেন্ট আমাকে একবার প্রশ্ন করলো , আচ্ছা ভাইয়া , যে আমেরিকা পরমানু বোমা বানাতে পারে , রকেট বানাতে পারে , আধুনিক যুদ্ধ বিমান বানাতে পারে , তারা কি নিজেদের পোশাক , জামা কাপড় নিজেরা বানাতে পারে না...


  • দাম্পত্য জীবনে সুখী হবার উপায়
    দাম্পত্য জীবনে সুখী হবার উপায়

    06 November 2018

  • #দাম্পত্য_জীবনে_সুখি_হওয়ার_উপায়   #স্বামীদের_জন্য   "আরে বলিস না দোস্ত বউয়ের জ্বালায় বাসায় যেতে ইচ্ছে করে না!!সবসময় একই কথা,তুমি আমাকে আগের মতো ভালবাস না,সময় দাও না!!প্রতিনিয়ত এসব শুনতে...